আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইং ১১:১১ এএম.
১৬টি নদ-নদীবেষ্টিত ও হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। তীব্র ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে সকাল ও রাতের দিকে শীতের তীব্রতায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এবারের শীত মৌসুমের শুরু থেকেই কুড়িগ্রামে ভিন্নমাত্রার শীত অনুভূত হচ্ছে। রাতভর বৃষ্টির মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে ঘন কুয়াশা। বিকেল গড়াতেই কুয়াশার দাপট শুরু হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকছে। কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা দেরিতে মিলছে, ফলে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ।
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নদীপথে চলাচলেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। কাজ না করলেও চলে না। তবুও এই শীতে কাজ করতে বেরিয়েছি। কাজ করলে হাত-পা যন্ত্রণা করে, শরীর কামড়ায়। তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে তাকে কাজে বের হতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের মোঃ জয়নাল আবেদিন বলেন, অতিরিক্ত শীত ও ঠান্ডার কারণে তার ছোট সন্তান কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছে। তিনি বলেন, অবস্থা খারাপ হলে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শীতজনিত রোগে শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে কৃষিখাতেও পড়তে শুরু করেছে শীতের নেতিবাচক প্রভাব। কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক মোঃ আলম মিয়া বলেন, যে শীত আর ঠান্ডা শুরু হয়েছে এতে বেগুনের আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ধারদেনা করে এত আবাদ করেছি। যদি বেগুন নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন কুয়াশা ও ঠান্ডা অব্যাহত থাকলে শীতকালীন ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ কাজে যেতে পারছেন না।
শীতের তীব্রতায় জেলার বিভিন্ন স্থানে আগুন পোহানো মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষ বেশি কষ্টে রয়েছেন। আবহাওয়া এমনই থাকলে আগামী দিনগুলোতে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।